
রাজশাহীর তানোর উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নের (ইউপি) রাতৈল তিন রাস্তার মোড়ে বিএমডিএর গভীর নলকূপের পানি নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত নেকসার আলী (৩৫) ঘটনার (৬) ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ইন্তেকাল করেছেন। তানোরে বিএনপির শান্তিপূর্ণ রাজনীতির মাঠ অশান্তের নেপথ্যে কি, জনমনে প্রশ্ন?
গত পহেলা এপ্রিল (মঙ্গলবার) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বাড়ি চাঁন্দুড়িয়া ইউপির রাতৈল গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন।
জানা গেছে, নেকসার আলী চাঁন্দুড়িয়া ইউপির ৭নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় নিহত নেকসার আলীর চাচা নওশেরাজ শেখ বাদী হয়ে চাঁন্দুড়িয়া ইউপি বিএনপির প্রচার সম্পাদক রনিসহ (১৭) জন কে আসামি করে ঈদের দিন (সোমবার) দিবাগত রাতে তানোর থানায় একটি মামলা করেছেন বলে তানোর থানা বিএনপির সাবেক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু এরির্পোট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১১ মার্চ (মঙ্গলবার) উপজেলার পাঁচন্দর ইউপিতে ইউপি বিএনপির ইফতারকে কেন্দ্র করে দু”পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা মোমিনুল হক মোমিনের ভাই গানিউল হক নিহত হয়। গানিউল হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে বিএমডিএর গভীর নলকূপে থেকে পানি সেচ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুইপক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষকদলের নেতা নেকসার আলী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যবরণ করেন। দুই সপ্তার ব্যবধানে তানোরে বিএনপির রাজনীতিতে আধিপত্ত্য বিস্তার নিয়ে দু’জনের প্রানহানির ঘটনায় দলটির নেতাকর্মীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এদিকে মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে
বিএনপির দুই কর্মীর এমন মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ও খোভ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছে, তানোরে বিএনপির রাজনীতি কখানোই কোনো সহিংসতা ছিলোনা। তাদের প্রশ্ন; তাহলে হঠাৎ করেই এমন সহিংসতা সৃস্টি হলো কিভাবে, এর নেপথ্যে রযেছে কারা?
তৃনমুলের নেতাকর্মীরা বলছে, তানোরে বিএনপির রাজনীতিতে যেদিন থেকে আওয়ামী মদদপুষ্ট একশ্রেণীর ধান্দাবাজ, সুবিধাবাদী ও গ্রহনযোগ্যহীন বির্তকিত কথিত নেতার আর্বিভাব ঘটেছে, সেদিন থেকেই তানোরে বিএনপি’র রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিগত ১৭ বছর যারা আওয়ামী লীগের ছায়াতলে থেকে বিপুল অর্থ-সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ছিলেন রাসিকের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ঘনিষ্ঠ সহচর, আওয়ামী লীগে দিয়েছেন অর্থের যোগান, যাদের রাজনৈতিক জীবন টাই পালাবদলের। হঠাৎ এরা বিএনপি’র রাজনীতির মাঠে নামার পরপরই, শান্তিপূর্ণ রাজনীতির মাঠ অশান্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।
এমন পরিস্থিতিতে কেউ -কেউ বলছে, আওয়ামী মদদপুষ্ট বিএনপি’র
একশ্রেণীর নেতা আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও বিএনপিকে দুর্বল করতে কৌশলে বিএনপির অত্যন্ত সম্ববনাময় গোছানো ভোটের মাঠ নষ্ট করতে নানা অপতৎপরতা শুরু করেছে। এরা বিএনপি,’র চাদর গায়ে দিয়ে বিএনপির পরিচয়ে মাঠে থেকে কৌশলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরোধে জড়াচ্ছে। ফলে রাজনীতির মাঠে তাদের বিচরণ ঠেকাতে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলের কাছে তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়ন (ইউপি) বিএনপির প্রচার সম্পাদক রনি বলেন, এবছর ইফতার মাহফিল কেন্দ্র করে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে একজন নিহত হন। তাই আমরা ইফতার আয়োজনের পক্ষে ছিলাম না। ইউনিয়ন বিএনপি এটা বয়কট করেছে। কিন্তু বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন ইফতার আয়োজন করবেনই। তাকে প্রতিহত করতে তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। তারা বুঝতে পারেননি খুন খারাপি ও হত্যাকান্ড হবে বলে অনুতপ্ত তিনি।
এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন বলেন, বিএমডিএ এর (বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষর (সেচপাম্প) নিয়ে গন্ডগোল – মারামারি হয়েছে, আমার বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে। আমি ওই এলাকায় দুই বছর ধরে যাই নাই। কিন্তু রাতৈলে আজাদ আলীর পক্ষের লোকজনের হামলায় তার নিজের পক্ষের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গত (মঙ্গলবার) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নেকসার আলীর মৃত্যু হয়েছে। আইনি পদক্ষেপ নিতে (ওসি) কে বলা হয়েছে।
এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, ঘটনার দিন মারামারিতে দুই পক্ষের ১৫ জন আহতদের মধ্যে নেকসার আলী মারা গেছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।